আগে ভাবতাম বিদেশে যারা আসে সবাই ধনী শ্রেণীর লোক,কিন্তু বিলাতে এসে বুঝলাম সিংহভাগই ছোটলোক।

আগে ভাবতাম বিদেশে যারা আসে সবাই ধনী শ্রেণীর লোক।অর্থাৎ ভদ্র এবং ভালো পরিবার থেকে আসে,ভালো মনমানসিকতা থাকে,কিন্তু যুক্তরাজ্যে এসে বুঝলাম সিংহভাগই ছোটমনের লোক।গত দেড় বছরে বিলাতে অসংখ্য মানুষের সাথে মিশেছি অসংখ্য বাঙ্গালীকে কাছে থেকে দেখেছি।এখানে যেটা বুঝলাম,তাদের কথা মতে তারা দেশে ঋণ করে এখানে ভাগ্য বদলাতে আসে।আমার এটা বুঝে আসে না,তারা যেই পরিমাণ অর্থ খরচ করে এখানে আসে সেই অর্থ দিয়ে দেশে খুব ভালো মানের ব্যাবসা শুরু করতে পারে,যে প্রতিষ্ঠানের মালিক সে নিজে এবং তার অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীও রাখতে পারবে।কিন্তু তারা যেই সব নিম্ন মানের কাজ এখানে আনন্দের সাথে করে তা দেশের মানুষের চিন্তার বাহিরে। এই একই কাজ কখনো নিজ দেশে এরা করতে চায় না,তাদের কি বলবো আমি নিজেও চাই না।

বিলাতে বেশিরভাগ মানুষই দুই ধরনের ভিসাতে আসে।প্রথমত শিক্ষার্থী ভিসা এবং দ্বিতীয়ত কেয়ার ভিসা। শিক্ষার্থী ভিসায় যারা আসে,গবেষণা করলে দেখা যাবে ৩-৪ % শতাংশ পড়ালেখার উদ্দেশ্যে আসে। বাকি সবাই আসে টাকা উপার্জনের জন্য (যদিও সকল অবস্থান থেকেই মানুষের মোক্ষম উদ্দেশ্য টাকা উপার্জন)।এরা পড়ালেখার ধার ই ধারেনা। কারন এই দেশে পরিক্ষার প্রয়োজন হয় না,পরিক্ষার বদলে এখানে এ্যাসাইনমেন্ট / রিপোর্ট লিখে জমা দিতে হয়।আর এই সব এই দেশে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যায়।যার কারনে এরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে শুধু পাউন্ডের পিছনে ছোটে আর যত্রতত্র নিন্ম মানের কাজ চালিয়ে উপার্জন করে।আমি উপার্জন কে খারাপ বলছি না,আমি নিজেও কাজ করি কিন্তু এইসব দেশে এসে এদের যত্রতত্র নিন্ম মানের কাজ করে উপার্জনের দরুন তাদের মধ্যে ভালো পজিশনের কাজ করার চিন্তা মস্তিষ্ক থেকে লোপ পেয়ে গেছে। এখানে অনেক ভারতীয় আছে যারা অনেক কোম্পানিতে ভালো পজিশনে আছে কিন্তু বাঙ্গালী সেই সব পজিশনে নাই বল্লেই চলে। এখানে ডিগ্রি নিয়ে তাই এদের কোনো উন্নতি নেই।কারন তারা তো অর্থের বিনিময়ে পাশ করেছে।কোনো কিছুই শিখে নি,শুধু পাউন্ড কামানো শিখেছে। এই শ্রেণীর জন্য বাঙ্গালী যারা একটু ভালো পজিশন নিয়ে চিন্তা করে তারাও আর উপরে উঠতে পারে না। কারন এদের মন মানিসিকতার জন্য ব্রিটিশরা বাংলাদেশ শুনলেই বুঝে আমারা কোন শ্রেণীর কাজের জন্য উপযোগী।

দ্বিতীয়ত কেয়ার ভিসায় যারা আসে তারা তো কাজের জন্যই আসে।বলতে খারাপ শোনা গেলেও এই শ্রেণীর লোকজন এখানে নাগরিক হওয়ার জন্য সবকিছু ত্যাগ করতেও রাজি থাকে। কেয়ার নাম শুনে ডাক্তার-নার্স মনে হলেও এদের কাজ আমাদের দেশের হাসপাতালের আয়া অথবা সুইপার এর কাজের মতোই।তবে মজার বিষয় হলো দেশে যারা ডাক্তার ছিলো তারা আবার এখানে এই কাজকে নিজেদের বলে দাবি করে,এবং জেনারেল থেকে কেয়ারে কাজ করাদেরকে ব্যাঙ্গাত্মক করে।সব ডাক্তারদের কথা বলছি না তবে সিংহভাগ ই করে।

এখানে কাজের নাম গুলা খুব সুন্দর।দেশ থেকে এই নাম গুলা শুনলে অফিসার ভেবে বসে। এই যেমন, "হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার - এদের কাজ বাড়ি বাড়ি  গিয়ে স্পেশাল মানুষের খাবার বানানো, কাপর পরিস্কার করা,গোসল করিয়ে দেওয়া,প্যাম্পাস বা ন্যাপি বা ডায়াপার পরিবর্তন করা ইত্যাদি।" আবার যেমন, "হাইজিন অফিসার- এই শ্রেণীর কাজ ঝাড়ু পুছা করা।" তারপর যেমন "ওয়্যারহাউজ অপারেটিভ- এক কথায় কুলির সব কাজ করা।" এমন অনেক সুন্দর নাম তারা রেখেছে যেগুলা আমাদের দেশে অনেক বড় অফিসার মনে হলেও আসলে এই সব কাজ কর‍তে হয়। আমরা এই সব কাজ ই এই দেশে করি,অথচ এমন ভাব নেই যে আমরা বড় অফিসার। আমি বলছি না এই কাজ করা যাবে না, আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে দেশে এই কাজ আমরা কেউ করতাম না কিন্তু এখানে ঠিকই করছি।আর নিজেদের নিমজ্জিত করছি।

বিদেশ ট্যুরের জন্যই উপযোগী, এখানে বসবাসের জন্য আমরা উপযুক্ত নয়। দেশে বিস্তর ঋণ করে বিদেশে এসে নিম্নমানের সব কাজ করার থেকে পরিবারের সাথে দেশে থাকা শ্রেয়।এখানে এসে আমরা নিজেদের এতো নিচে নামিয়ে ফেলি যে আর উপরে উঠার সাহস করে উঠতে পারি না।তারপর সব ম্যানেজ করতে না পারলে এ্যাসাইলাম বা প্রাণ ভিক্ষা তো চাই ই।পাউন্ড-ইউরো এর তুলনায় দেশের টাকার মান কম,সেই তুলনায় আমরা অনেক উপার্জন করি,কিন্তু পাউন্ড হিসাবে আমরা কত উপার্জন করি সেটা কখনো ভাবি না। সারা মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাস শেষে একদিন সুন্দর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আমরা নিজেদের অনেক বড় অফিসার প্রমাণ করতে নিরর্থক চেষ্টা করি।বস্তুত আমরা এদেশে নিজদের মর্যাদা ভুলে নিন্ম থেকে নিম্নমানের কামলা হচ্ছি।



বল্টু
লিভারপুল,ইংল্যান্ড।
১৬-০২-২০২৫





মন্তব্যসমূহ